খুলনা | মঙ্গলবার | ১৬ এপ্রিল ২০২৪ | ৩ বৈশাখ ১৪৩১

খুলনার মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ চলচিত্র প্রযোজক রাজ

বিনোদন প্রতিবেদক |
১০:০৪ পি.এম | ০৫ অগাস্ট ২০২১

রাজধানীর বনানী থানায় দায়েরকৃত মাদক মামলায় প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার সহযোগী সবুজ মিয়ার চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে আসামীদের ৭ দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বহুল আলোচিত-সমালোচিত চলচিত্র নির্মাতা নজরুল ইসলাম রাজ খুলনার একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশও করেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি। পরীমনির মাদক সরবরাহকারী, পর্নগ্রাফি তৈরিসহ নানান অভিযোগে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে অজানা তথ্য।

র‍্যাব জানায়, নজরুল রাজকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ১৯৮৯ সালে খুলনার একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। পরে ঢাকায় গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন বলে দাবি করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঠিকাদারী কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি শোবিজ জগতেও তাঁর অনুপ্রবেশ ঘটে। বিভিন্ন সিনেমা/নাটকে তিনি নানান চরিত্রে অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে নামে বেনামে প্রযোজনায় যুক্ত হন। রাজ মাল্টিমিডিয়া নামেও তাঁর একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসায়িক জগত ও চিত্র জগতের দুই ক্ষেত্রে তাঁর সংযোগ থাকায় তিনি অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নিজ অবস্থানের অপব্যবহার করেন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, নজরুল রাজ ইতোপূর্বে গ্রেফতারকৃত শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের সহযোগিতায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন। উক্ত সিন্ডিকেটটি রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। উক্ত পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে সিন্ডিকেট সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত অভিজাত পরিবারের সদস্য। প্রতিটি পার্টিতে ১৫ থেকে ২০ জন অংশগ্রহণ করত। এ ছাড়া সিন্ডিকেটটি বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করত। একইভাবে উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টির আয়োজন করা হতো। পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে আগত ব্যক্তিদের চাহিদা/পছন্দের গুরুত্ব দিয়ে পার্টিগুলো আয়োজন করত। গ্রেপ্তারকৃত নজরুল রাজের সিন্ডিকেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করতেন। সুদূর প্রসারী পরিকল্পনায় তারা অগ্রসর হতেন ও স্বার্থ চরিতার্থ করতেন। রাজের ‘রাজ মাল্টিমিডিয়া’র কার্যালয়টি অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হতো।

নজরুল রাজ র‍্যাবকে জানিয়েছেন, এ জাতীয় অবৈধ আয় থেকে অর্থ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় আমদানি, ড্রেজার বালু ভরাট ও ঠিকাদারী এবং শোবিজ জগতে বিনিয়োগ করতেন। বর্ণিত ব্যবসায় বেশ কয়েকজন অবৈধ অর্থের যোগানদাতাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের ব্যবসায়িক কাঠামোতে অস্বচ্ছতা রয়েছে।
প্রসঙ্গত্ব, গতকাল বুধবার (৪ আগস্ট) রাতে রাজ ও তার সহযোগী সবুজ মিয়াকে বনানীর বাসা থেকে মাদক ও সিসা সেবনের সরঞ্জামসহ আটক করে র‌্যাব। এছাড়া পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।