খুলনা | বুধবার | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

সাত মাসের মধ্যে চীনে করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ

খবর প্রতিবেদন |
০৫:২৯ পি.এম | ১০ অগাস্ট ২০২১

করোনাভাইরাসের উৎস বা জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত দেশ চীনে গত সাত মাসে সর্বোচ্চ দৈনিক সংক্রমণ হয়েছে মঙ্গলবার। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা সিনহুয়া নিউজের বরাত দিয়ে করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার চীনে করোনায় নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৪৩ এবং আক্রান্তদের একটি বড় অংশই দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংশু প্রদেশের ইয়াংশু শহরের। শহরটিতে মঙ্গলবার করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১০৮ জন।

চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের আগে চলতি বছর জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখ চীনে নতুন আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন ১৪০ জন। মঙ্গলবারের আগ পর্যন্ত দেশটিতে এটি ছিল ২০২১ সালে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।

চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক পরিবর্তিত ধরন ডেল্টার প্রভাবে সংক্রমণ বাড়ছে দেশটিতে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, দেশের বেশ কিছু নগরে করোনা টেস্ট প্রক্রিয়ায় ঢিলেমী চলছে। নগরসমূহের কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা সত্ত্বেও টেস্টিংয়ে গতি আসছে না।

তবে সময়ের সঙ্গে বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যাবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও দেশটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ঝ্যাং ওয়েনহন সিনহুয়া নিউজকে বলেন, ‘আমরা অতীতে দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে গুয়াংজু প্রদেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। জিয়াংশুর সংক্রমণ পরিস্থিতিও পর্যাক্রমে নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে।’

গত দেড় বছর ধরে যে করোনা মহামারিতে বিশ্ব কাঁপছে, সেই রোগে আক্রান্ত রোগী প্রথম শনাক্ত হয়েছিল চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। করোনায় প্রথম মৃতুর ঘটনাও ঘটেছিল উহানে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উহানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম যে ব্যক্তি মারা গিয়েছিলেন, তার বয়স ছিল ৬১ বছর। তখনও এ রোগের কোনো নাম দেওয়া হয়নি। চীনের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল- ‘অপরিচিত ধরনের’ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির।

পরে অবশ্য জানা যায়, সার্স গ্রুপের ভাইরাস সার্স-কোভ ২ এ আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নতুন এই ভাইরাসটির বৈজ্ঞানিক নাম সার্স-কোভ ২ হলেও সাধারণভাবে এটি পরিচিতি পায় নভেল করোনাভাইরাস নামে।

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরপরই সরকারি আদেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় উহানের কেন্দ্রে অবস্থিত সি ফুড মার্কেট, যেখানে সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণীর পাশাপাশি জীবিত বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীর মাংসও বিক্রি হতো।

চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সি ফুড মার্কেটে বিক্রির জন্য আনা বাদুড়, প্যাঙ্গোলিন বা অন্য কোনো প্রাণী থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে ভাইরাসটি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের কয়েকটি দেশের অভিযোগ, উহানের গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে এই ভাইরাসটি প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং গবেষণাকর্মীদের অসাবধানতার ফলে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। চীন অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

এদিকে করোনা মহামারি শুরুর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন ও কঠোর বিধিনিষেধ জারির মাধ্যমে করোনায় দৈনিক সংক্রমণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটি; কিন্তু সম্প্রতি আবার তা বাড়ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত চীনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৯৩ হাজার ৫৯৮ জন এবং এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৪ হাজার ৬৩৬ জন।

সূত্র : এএফপি

প্রিন্ট

আরও খবর