খুলনা | রবিবার | ২১ জুলাই ২০২৪ | ৫ শ্রাবণ ১৪৩১

এবার অস্ট্রেলিয়াকে স্রেফ উড়িয়ে দিলো টাইগাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৯:০২ পি.এম | ০৯ অগাস্ট ২০২১

সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার মিরপুর শের এ বাংলা স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে পরাজিত করে সিরিজ জিতে নেয় ৪-১ ব্যবধানে। বাংলাদেশের করা ১২২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ৬২ রানেই অল আউট করে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ হারা অজিরা মাত্র একটি জয় নিয়ে ফিরে যাচ্ছে দেশে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের সর্বনিন্ম রানের লজ্জা পেলো অজিরা। 

বাংলাদেশের পুঁজি ছিল মাত্র ১২২ রানের। তবে এই উইকেটে এই রানটাও যে পাহাড়সমান, সেটা হারে হারেই টের পেল অস্ট্রেলিয়া। ১৪ রানে শেষ ৭ উইকেট হারায় তারা। ১২৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চেপে ধরেন টাইগার বোলাররা। ১৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় ম্যাথু ওয়েডের দল। দুটি উইকেটই নেন নাসুম আহমেদ।

গত ম্যাচে এক ওভারে ৩০ রান করা ক্রিশ্চিয়ানকে এবার উইকেটে থিতু হতে দেননি নাসুম। টাইগার বাঁহাতি এই স্পিনার ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে নিয়েই বোল্ড করে দেন ক্রিশ্চিয়ানকে। ৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। পরের ওভারে অসি মিচেল মার্শকে এলবিডব্লিউ করেন নাসুম। এরপর ম্যাথু ওয়েড আর ম্যাকডরমট কিছুটা চোখ রাঙানি দিয়েছিলেন। গত ম্যাচে বেদম মার খাওয়া সাকিব আল হাসান এবার অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়েই নিজের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে বোল্ড করেছেন অসি অধিনায়ক ওয়েডকে (২২ বলে ২২)।

পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দুঃখ আরও বাড়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিজের প্রথম ওভারে তিনিও সাফল্য পান, ফেরান ম্যাকডরমটকে (১৬ বলে ১৭)। এক ওভার একটু স্বস্তিতে কেটেছিল অস্ট্রেলিয়ার। তারপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জোড়া আঘাত। প্রথমে দারুণ এক ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড করেন অ্যালেক্স কারেকে (০)। এক বল পর উইকেটের পেছনে ক্যাচ ময়েচেস হেনড্রিকস (৩)।

পরের ওভারে সাকিবকে কাট করতে গিয়ে শর্ট কভারে ক্যাচ অ্যাশটন টার্নার (১)। ৫৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এরপর লেজটা মুড়ে দিতে আর সময় লাগেনি। ১৩.৪ ওভারেই ৬২ রানে গুটিয়ে যায় অসিদের ইনিংস। আগের ম্যাচের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে সাকিবই দলের সেরা বোলার। মাত্র ৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। সাইফউদ্দিন ১২ রানে ৩টি আর নাসুম ৮ রানে নেন ২ উইকেট।

এর আগে টাইগাররা টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিন ব্যাটিংয়ের উদ্বোধন করেন শেখ মেহেদী হাসান ও নাঈম শেখ। ৪.৩ ওভারে ৪২ রান এনে দেয় উদ্বোধনী জুটি। মেহেদী ১২ বলে ১৩ রান করে ফিরলেও নাঈম দিচ্ছিলেন ইনিংস বড় করার ইঙ্গিত। ওয়ান ডাউনে নেমে সাকিব আল হাসান এদিনও ছন্দে ছিলেন না। ২০ বল মোকাবেলা করে সাজঘরে ফেরার আগে করেন মাত্র ১১ রান। তার আগে অবশ্য বিদায় নেন নাঈম, একটি করে চার-ছক্কায় ২৩ বলে ২৩ রান করে।

সমালোচনার মুখে থাকা সৌম্য সরকার চার নম্বরে নেমে শ্লথ শুরু করে। ১৪ বলে ১৯ রান করে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বিদায় নেওয়ার পর মারমুখী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন সৌম্য। তবে একটি করে চার-ছক্কা হাঁকালেও ১৮ বলে ১৬ রান করে ফেরেন সাজঘরে, সিরিজে নিজের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলে।

এরপর নুরুল হাসান সোহানের ১৩ বলে ৮, আফিফ হোসেন ধ্রুবর ১১ বলে ১০ এবং একাদশে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ৯ বলে ৫ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে এনে দেয় স্বল্প পুঁজি। অতিরিক্ত খাতে বাংলাদেশ পেয়েছে ১৮ রান।

১৫ ওভারে ১০২ রান জড়ো করা বাংলাদেশ স্লগ ওভারে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২২ রান। অজিদের পক্ষে নাথান এলিস ও ড্যান ক্রিশ্চিয়ান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

প্রিন্ট

আরও খবর