খুলনা | বুধবার | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

খুলনা থেকে হারারে : ১০০ টি-টোয়েন্টিতে টাইগারদের যত অর্জন

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৯:৪৩ পি.এম | ২২ জুলাই ২০২১

হালের ক্রিকেটের সবথেকে জনপ্রিয় ফরমেট টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ২০০৬ সালে এই ক্রিকেটে অভিষেক হয় বাংলাদেশের। এবার সেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের শততম ম্যাচ খেলে ফেললো টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের হারারেতে নিজেদের মাইলফলকের শততম ম্যাচ খেললো বাংলাদেশ। খুলনায় নিজেদের অভিষেক সেই ম্যাচে জয় পেয়েছিলো টাইগাররা। আজ (২২ জুলাই) মঙ্গলবার নিজেদের শততম ম্যাচেও দারুণ জয় পেলো টাইগাররা। এর আগে ক্রিকেটের অন্য দুই ফরমেট টেস্ট ও ওয়ানডেতেও নিজেদের শততম ম্যাচে জয় পেয়েছিলো বাংলাদেশ। 
প্রথম, ৫০ ও শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলার অনন্য নজির স্থাপন করলো বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে খেলতে নেমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে বাংলাদেশ। নবম দল হিসেবে একশ টি-টোয়েন্টি খেলতে নামলো মাহমুদল্লাহর নেতৃত্বাধীন দলটি।
বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলেছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনায় মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। জিম্বাবুয়েরও সেটি ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। বাংলাদেশ যেখানে ম্যাচের সেঞ্চুরি পূর্ণ করলো, সেখানে জিম্বাবুয়ে খেলছে ৮৬তম ম্যাচ।
বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ছিলেন শাহরিয়ার নাফিস। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছিল ৪৩ রানে। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে মাশরাফি (৩৬ রান ও ১ উইকেট) ছিলেন সেই ম্যাচের নায়ক। ওই প্রথম ম্যাচের মাত্র একজন ক্রিকেটার খেলছেন এই ম্যাচে, সাকিব আল হাসান। মুশফিকের সুযোগটা ছিল। কিন্তু হলো না পারিবারিক কারণে। তিনি এখন ঢাকায়।
বাংলাদেশ এই ফরম্যাটে ৫০তম ম্যাচটিও খেলেছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, সেই খুলনাতেই। ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি  ম্যাচটি হেরেছিল বাংলাদেশ। সেটিই এই ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ হার। এরপর চার মুখোমুখিতে প্রত্যেকটি জিতেছে। ৫ বছর পর সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের শততম ম্যাচ। ম্যাচটি হচ্ছে হারারেতে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। এছাড়া ১২টি করে খেলেছে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বিপক্ষে খেলেছে ১১টি করে। ১০টি খেলেছে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬টি করে এবং আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছে যথাক্রমে ৬, ৫ ও ৪টি করে ম্যাচ। ১টি করে ম্যাচ খেলেছে ওমান, কেনিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল, স্কটল্যান্ড ও হংকংয়ের বিপক্ষে।
এ ফরম্যাটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খুব বেশি ভালো নয়। ৯৯ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৩২টি, হেরেছে ৬৫টি। ফল আসেনি ২ ম্যাচে। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৯০), মুশফিকুর রহিম (৮৬), সাকিব আল হাসান (৭৭), তামিম ইকবাল (৭৪), মাশরাফি মুর্তজা (৫৪)।
টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান (১৭৩), তার পরে আছে  নিউ জিল্যান্ড (১৪৫), ভারত (১৪২), অস্ট্রেলিয়া (১৪১), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৪০), দক্ষিণ আফ্রিকা (১৩৭), ইংল্যান্ড (১৩৭), শ্রীলঙ্কা (১৩৪)। 
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান তামিম ইকবালের। ৭৪ ম্যাচ খেলা তামিম ইকবাল এই ফরমেটে করেছেন ১৭০৩ রান। ৭৭ ম্যাচ খেলে ১৫৬৭ রান নিয়ে তার পরেই আছেন সাকিব আল হাসান। সবথেকে বড় স্কোরও তামিম ইকবারের দখলে। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিতে একমাত্র সেঞ্চুরিটি তামিমের। ওমানের বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ১০৩ রান। টি-টোয়েন্টিতে বোলিংয়ে সবথেকে বেশী উইকেট তামিম ইকবালের দখলে। ৭৭ ম্যাচে ৯৩ উইকেট পেয়েছেন তিনি। ৪৩ ম্যাচে ৬১ উইকেট নিয়ে তার পরেই আছেন মুস্তাফিজুর রহমান। 
 

প্রিন্ট

আরও খবর