খুলনা | রবিবার | ২১ জুলাই ২০২৪ | ৫ শ্রাবণ ১৪৩১

ঢাকা লিগে আলো ছড়ালেন খুলনার ক্রিকেটাররা

আব্দুল্লাহ এম রুবেল |
০৫:৪৮ পি.এম | ২৭ জুন ২০২১

দীর্ঘদিন পর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ দিয়ে মাঠে গড়িয়েছিলো ঘরোয়া ক্রিকেট। আবাহনীর শ্রেষ্ঠত্বে এরই মধ্যে শেষও হয়েছে দেশের ক্লাব ভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সবথেকে বড় এ আয়োজন। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অন্যবারের তুলনায় কম সংখ্যক খেলোয়াড় অংশ নিলেও আলো ছড়িয়েছেন খুলনার ক্রিকেটাররাই। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটে বিভিন্ন দলের হয়ে অংশ নিয়েছেন খুলনার জেলার ৮ ক্রিকেটার। যাদের প্রত্যেকেই পারফরমেন্স ছিলো চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের নেতৃত্বে থাকা নুরুল হাসান সোহান পুরো টুর্নামেন্টেরই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। চলুন দেখে আসি এবারের ঢাকা লিগে খুলনার খেলোয়াড়রা কেমন পারফর্ম করলেন।

নুরুল হাসান সোহান : শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের নেতৃত্বে ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। আর পুরো টুর্নামেন্টে খেললেন অধিনায়কের মতোই। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া যাকে বলে এই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সেটাই দেখিয়েছেন খুলনার এই ক্রিকেটার। দলকে সুপার লিগে উঠানোর সবথেকে বড় অবদান এই ক্যা্েপ্টনেরই। বারবার দলের ক্রান্তিলগ্নে নেমে খেলেছেন ঝড়ো ইনিংস। তার ব্যাটে ছিল ক্ষিপ্রতা, পুরোপুরি টি-টোয়েন্টি সুলভ। সোহান ১৬ ম্যাচ খেলে ৩৮৯ রান করে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন। সোহান এবার কতটা ভয়ঙ্কর ছিলেন তা বোঝা যায় চারের চেয়েও ছয়ের সংখ্যা বেশি দেখলে। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান  ১৯টি চার ও ২৬টি ছয়। তিনি ব্যাটিং করেছেন ১৪৯.৬১ স্ট্রাইকরেটে। পাশাপাশি উইকেটের পিছনেও ১০টি ডিসমিসাল করেছেন তিনি।

শেখ মাহেদী হাসান : লিগে ব্যাটিং ও বোলিং দুই যায়গায়ই শুরুর ১০-১৫ জনের মধ্যে নাম থাকা একমাত্র খেলোয়াড় শেখ মাহেদী হাসান। এবারের লিগে ব্যাটে বলে সমান পারফর্ম করেন মাহেদী। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে খেলেছেন এই ক্রিকেটার। ১৭ ম্যাচে ১৪৩.৭২ স্ট্রাইকরেটে ৩৫৫ রান করেছেন শেখ মাহেদী। ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়েও দারুণ ছন্দে ছিলেন মাহেদী। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের হিসেবে দারুণ ইকোনমী বোলিং করেছেন পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে। মাত্র ৬.২৪ গড়ে ১৮টি উইকেট নিয়েছেন এই স্পিনার।

জিয়াউর রহমান জনি : জাতীয় দলের জার্সির আশাটা হয়তো ছেড়েই দিয়েছেন জিয়াউর রহমান জনি। তবে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তকমা পাওয়া জিয়াউর রহমান জনি নিজেকে প্রমান করেছেন এখনও কম যান না তিনি। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে নুরুল হাসান সোহানের সাথে জুটি বেধে দলকে জিতিয়েছেন একাধিক ম্যাচ। ব্যাট হাতের পাশাপাশি বল হাতেও চোখে পড়ার মতো পারফর্ম করেছেন জিয়াউর রহমান। ১৬ ম্যাচে ১৫৭.১৪ স্ট্রাইক রেটে ২০৯ রান করেছেন। ব্যাট হাতে যখনই সুযোগ পেয়েছেন, কাজে লাগিয়েছেন। ব্যাটিংয়ের থেকেও বেশী বোলিংয়ে তার দল তার থেকে উপকৃত হয়েছে। ১৬ ম্যাচে ৭.২৭ গড়ে ১৮টি উইকেট নিয়েছেন এই মিডিয়াম পেসার।

মেহেদী হাসান মিরাজ : দল সুপার লিগে উঠতে না পারায় কিছু ম্যাচ কম খেলার সুযোগ হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের। খেলাঘর সমাজ কল্যান সমিতির হয়ে খেলতে নেমে দলটি সেরা পারফর্মারদের একজন ছিলেন খুলনার ছেলে মিরাজ। ব্যাট হাতে এবং বল হাতে দুই বিভাগেই সফল ছিলেন মিরাজ। বেশ কয়েকটি ম্যাচে দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবদান রেখেছেন এই ক্রিকেটার। ১১ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ১৯১ রান। আর বল হাতে মাত্র ৬.০৯ ইকোনমিতে ৭টি উইকেট নিয়েছেন জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য এই অল রাউন্ডার।

নাহিদুল ইসলাম : প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের সেরা পারফর্মারদের একজন খুলনার নাহিদুল ইসলাম। দলের রানার্স আপ হওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদানও কম নয়। ১৬ ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছেন ১৪৭ রান। তবে বল হাতে ছিলেন দারুণ উজ্জল। ১৬ ম্যাচে মাত্র ৫.৯০ ইকোনমিতে ১৫টি উইকেট নিয়ে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন খুলনার ছেলে নাহিদুল। দুই বিভাগ মিলে লিগের সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় নাম রাখা যেতেও পারে তার।

মাসুম খান টুটুল : খেলাঘর সমাজ কল্যান সমিতিতে মিরাজের সতীর্থ ছিলেন তারই এলাকা খালিশপুরের ক্রিকেটার মাসুম খান টুটুল। পেস বোলার টুটুল পুরো টুর্নামেন্টেই দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন। ১১ ম্যাচে মিরাজের মতো নিয়েছেন সমান ৭ উইকেট। শেষের দিকে নেমেও ব্যাট হাতে বেশ ভালোই পারফর্ম করেছেন টুটুল। ১১ ম্যাচে করেছেন ১৫১ রান।

আফিফ হোসেন : তরুণ উদীয়মান অল রাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব এবার খেলেছেন চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীর হয়ে। বেশ কয়েক ম্যাচে দারুণ পারফর্মও করেছেন তিনি। ১৬ ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছেন ২২৫ রান।

রবিউল ইসলাম রবি : দল সুপার লিগে উঠতে না পারায় খুব বেশী ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি ঘরোয়া লিগে সব সময় ভালো পারফর্ম করে নজরে থাকা রবিউল ইসলাম রবি। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলেছেন এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। ৮ ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া রবি করেছেন ১৩৬ রান। ৭ ইনিংসে বল করে একটি উইকেটও নিয়েছেন তিনি।

অমিত মজুমদার : তামিম ইকবাল-রকিবুলদের ভিড়ে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খুব বেশী ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান অমিত মজুমদারের। ৩ ম্যাচে ব্যাট করে ২১ রান করেছেন অমিত মজুমদার।

প্রিন্ট

আরও খবর